আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি। চিরদিন তোমার আকাশ, তোমার বাতাস, আমার প্রাণে বাজায় বাঁশি॥ ও মা, ফাগুনে তোর আমের বনে ঘ্রাণে পাগল করে, মরি হায়, হায় রে— ও মা, অঘ্রানে তোর ভরা ক্ষেতে আমি কী দেখেছি মধুর হাসি॥ কী শোভা, কী ছায়া গো, কী স্নেহ, কী মায়া গো— কী আঁচল বিছায়েছ বটের মূলে, নদীর কূলে কূলে। মা, তোর মুখের বাণী আমার কানে লাগে সুধার মতো, মরি হায়, হায় রে— মা, তোর বদনখানি মলিন হলে, ও মা, আমি নয়নজলে ভাসি॥ তোমার এই খেলাঘরে শিশুকাল কাটিলে রে, তোমারি ধুলামাটি অঙ্গে মাখি ধন্য জীবন মানি। তুই দিন ফুরালে সন্ধ্যাকালে কী দীপ জ্বালিস ঘরে, মরি হায়, হায় রে— তখন খেলাধুলা সকল ফেলে, ও মা, তোমার কোলে ছুটে আসি॥ ধেনু-চরা তোমার মাঠে, পারে যাবার খেয়াঘাটে, সারা দিন পাখি-ডাকা ছায়ায়-ঢাকা তোমার পল্লীবাটে, তোমার ধানে-ভরা আঙিনাতে জীবনের দিন কাটে, মরি হায়, হায় রে— ও মা, আমার যে ভাই তারা সবাই, ও মা, তোমার রাখাল তোমার চাষি॥ ও মা, তোর চরণেতে দিলেম এই মাথা পেতে— দে গো তোর পায়ের ধূলা, সে যে আমার মাথার মানিক হবে। ও মা, গরিবের ধন যা আছে তাই দিব চরণতলে, মরি হায়, হায় রে— আমি পরের ঘরে কিনব না আর, মা, তোর ভূষণ ব’লে গলার ফাঁসি॥ আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি। Lyrics by: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর Music by: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

Monday, December 19, 2011

ডুমুরের ফুল....

হঠাৎ করে তুমি ডুমুরের ফুল হয়ে যাও
কোথাও পড়ে না তোমার শরীরের ছাঁয়া
আমি চেয়ে থাকি পথের দিকে
তুমি আসবে বলে
কখনো কখনো বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামে
সন্ধ্যা পেরিয়ে কুয়াশার রাত
রাত গাঢ় হয় চন্দ্রের অস্ততায়
নীরব হয়ে উঠে ব্যস্ততম সড়ক, হাটবাজার
ক্লান্ত-শ্রান্ত মানুষ নীড়ে ফিরে ঘুমিয়ে পড়ে
অদূরে দেখা যায় সাগরের তটভূমি
শান্ত সাগরে স্রোতের মৃদু ঢেউ খেলে যায়
নিদ্রায় আলুথালু হয়ে পড়ে বনভূমি, জ্যোৎস্নার আকাশ
শুধু ঘুমায় না আমার দু চোখ
নিঃশব্দে খুঁজে বেড়াই তোমাকে

মাঝে মাঝে তুমি কোথায় উধাও হয়ে যাও?
নীরবে সন্ধ্যা নামে শীতের বিকেলে
পাখিরা আকাশে উড়ে, চলে যায় দূরের সীমানায়
পার্কে বেড়াতে আসে কপোত-কপোতীরা
আড্ডায় মেতে উঠে বিভিন্ন বয়সের মানুষ
বাজারে কেনাবেচার ধুম চলে
নাটকপাড়ায় চলে নাটকের শ্যুটিং
আস্তে আস্তে রাত নেমে আসে
খদ্দর বাড়তে থাকে বেশ্যাপাড়ায়
আজন্ম বেশ্যার দালাল হয়ে হাঁক ছাড়ে জনৈক আলাল
বনে বাদাড়ে শোনা যায় শেয়ালের ডাক
আমি বড় একা হয়ে যাই
ফিরতে পারি না আপন আলয়
ঠাঁই দাড়িয়ে থাকি তোমার বাড়ির সীমানায়
কখন শেষ হবে তোমার অজানা নির্বাসন?
কবে ফিরে আসবে তুমি?
কবে ছাঁয়া পড়বে তোমার নগরীর বুকে?



_____
মোঃ মুজিব উল্লাহ

Monday, December 12, 2011

অশ্রু হারা অশ্রু!!

স্বপ্নগুলো নিরবে অশ্রু ঝরায়
বেদনার নীল কাব্য নিরাশার বানী শোনায়।
প্রতিটা মুহূর্ত একেকটি বছর মনে হয়!
সুখের প্রত্যাশায় দুঃখগুলো ভাষা খুঁজে পায়।
তবু রেখে যায় কিছু অন্ততহীন প্রত্যাশা!
এক দিন সুখ আসবেই।
বেদনার কালো মেঘ গুলো একদিন যাবে কেটে।
প্রানের সব স্পন্দনে সুখকর স্বপ্ন হয়ে দোলা দেবে।
দুঃস্বপ্নের ঘোর কেটে যাবে।
কেটে যাবে সুনামির ভয়াল রাত্রি।
কেটে যাবে বিভীষিকাময় ভয়ার্ত ক্ষণগুলী।

একদিন ভালোবাসা এসে জড়িয়ে নেবে।
প্রানের মায়ায় বুকেতে ঠাই দেবে।
সব হায়ানার চিৎকার পেছনে ফেলে
ভালোবাসাময় ভালোবাসায় কাছে টেনে নেবে।
বিধি বড় দেরি যেন না হয় জেনো!
অপেক্ষার প্রত্যাশায়
প্রান পাখি যেন উড়ে চলে না যায়!
ছোট এ জীবনে এতটুকু চাওয়া।

Thursday, December 8, 2011

তবু পাই যেন তার সন্ধান!!!

আমি নিজের মতই বাধতে পারি গান
সাধতে পারি সুর, কিন্তু শোনানোর মানুষ কই?
আমি নিজের হৃদয়ে নিজেকেই দেখি, নিজেকেই আঁকি
....তবু যেন কার পথটি চেয়ে রই!

আমি ঐ সুর্যের দিব্যি দিয়ে বলতে পারি
আছি অনেক ভাল, আমি পূর্ণিমার ঐ চন্দ্রিমা হতে ছিনিয়ে নেই আলো-
দু'হাত পেতে মাখি সারা গায়, আমি নগ্ন-বেশে পিছন ফিরি-
...যদি কেউ অবাক হয়ে চায়!

আমি কখনও হাসিনি বর্ষার বিলাপে
কখনও কাঁদিনি বসন্তের রোদে নেয়ে,তবু তোমরা যখন কৃষ্ণচূড়ার কষ্টে রাঙ্গো-
আমি তাকে জড়াবো বলে-হারাবো বলে-তাহার কোলে-
শীতের শিশিরের বিছানায় শুয়ে,কুয়াশায় চুর হই,

আমি নিজেকে ভালবাসি, অনেক বেশি
তাহার চেয়েও! কাহার চেয়েও? ভেবে পাই না সাড়া-
শুধু শুনি বিরহী চাতকের গান, আমি নিজের বুকের সেই আমাকে গড়তে রাজি,
তাহার মত...২০৬টি হাড়ে জুড়িয়ে-মাংস বিলিয়ে-রক্ত পিয়ে-
যদি লাগে দিয়েই দেব প্রাণ...আমি তবু পাই যেন তার সন্ধান!!!


__________
বনসাই মেয়ে

একটু জায়গা দেবে?

আমার একটা পুরনো খাতা আছে;
এখনো ওটায় কিছু লেখা হয়নি
পৃষ্ঠাগুলোয় হলদেটে ছাপ পড়ছে
কলমের কালি তবু শুকিয়ে যায়নি।
নতুন করে লিখব পুরনো সুখগাঁথা
কিন্তু আজ সব অশান্তির জবরদখলে...
তোমার চিলেকোঠায় জায়গা দেবে?
শান্তিকাহন লিখব বসে তোমার টেবিলে।

আমার ঝোলায় অনেকগুলো রং আছে;
তুলি, প্যালেট আর নতুন ক্যানভাস।
দৃষ্টির সামনে সুন্দর যাকিছু খেলে যায়
মৌনসাধনায় তা ফুটিয়ে তোলা অভ্যাস।
এখন চারিদিকে কেবল স্বেচ্ছাচারিতা,
অন্ধকার সব আলোর নিয়েছে বর্গা!
আঁধার আঁকতেও আলোর প্রয়োজন-
তোমার ঝলমলে উঠোনে দেবে জায়গা?

ডুবে আছি, ভালবাসার বেনোজলে

রাতের এই মধ্যযামে
রাতের শরীরকে বিদীর্ণ করে
বসে আছি একা
নীড়হারা পাখীর মত,
জানালার ওপারে চাঁদ ডুবে যায়
রেখে যায় বেদনার শিউলী যত
তারা মন্থিত হতে হতে ভেসে যায়
সঞ্চিত জলের স্রোতে
ছোট ছোট বোধের পানসি ডুবে যায়
বুকে নিয়ে কষ্ট থোকা থোকা,
তৃষিত এ মনের দেহে
রেখে যায় স্মৃতির শিশির
বোধের অণুতে আমি ভেঙ্গে ভেঙ্গে
জল হই, প্রণয়ের জল
তোমাকে ভিজিয়ে দিতে
হৃদয়ের উষর মরুতে ।।


___________ জে এম আজাদ

অশ্রুজলে উপুর হয়ে থাকি লজ্জায়

হে আমার সুপ্রিয় নতুন প্রজন্ম,
কী বলে করবো সম্বোধন,
চল্লিশটি বছর তো গেল এই ভাবনায়
মনে তো পড়ে না -
কখনও লিখেছি তোমাদের
তাই আজ ভারী লজ্জা, তবুও লিখলাম
কোথা থেকে ছুটে এলো বিজয়ের মাস।

স্রোতের পাহাড়ে তৃষিত বক্ষ ছুয়ে
ঝাঁপিয়ে পড়ে ঝরণার অনুতে ভিজে
কঠিন পাথর ভেঙ্গে স্বাধীন করেছি দেশ
মানচিত্রখানা দিয়েছিলাম তোমাদের হাতে।

সাভার স্মৃতিসৌধে চূর্ণ হৃদয়দের কবরে
অশ্রুজলে উপুর হয়ে থাকি লজ্জায়
স্বাধীনতাটাকে দেখার সাধ ছিল বড়
সর্বনাশা আগুনের আনন্দাশ্রু সংবরণে।

আমার ধূসর স্মৃতিগুলো জেগে ওঠেছে
যদি দেখা হতো জগৎকর্তার সাথে
জড়িয়ে ধরতাম তাঁর চরণ দু'খানা
সেবা দিয়ে বলতাম মনের দু'টি কথা।

হে আমার ধর্ম সন্তান,
আমি মুক্তিযুদ্ধ করে শহীদ হয়েছি,
মনে করো না বিশাল কিছু করে ফেলেছি
যতটুকু করেছি, চিরকাল গর্ববোধ করবে
তোমার সামনে দীর্ঘ বিপ্লবের পথ
তোমাকেও হতে হবে বিপ্লবী
সবসময় থাকবে ন্যায্য দাবীর পাশে।

এমাসে আর একবার পাশে
এসে দাঁড়াবে প্রিয়তম বর্বরেরা
খিটিরমিটির করেও জ্বালা নিয়ে থাকি
মনের আগুনে সিক্ত হয়েও কবুল করি
আমার তো আর কোনও জো নেই।

এচিঠি পেলে কি না তা জানা হল না।

Monday, December 5, 2011

তুমি আমাকে কিছু বলতে চেয়েছিলে, অন্যরকম কিছু;
আমার জানাই ছিলো, অন্যরকম কিছু অন্যরকম নয়।
তুমি আমাকে তোমার প্রিয় জায়গায় নিমন্ত্রণ জানিয়েছিলে,
চিরে যাওয়া অতুল ভাবনা ঠেলে শেষবারের মতো তা গ্রহণ করেছিলাম।
হারানোর নিষ্ঠুর সুর যখন তোমার মাঝে খেলা করছিলো,
নির্মম বেদনা সয়ে অনেক কষ্টেও তখন আমি হেসেছিলাম।
ছিঁড়ে খুঁড়ে অনেক দূরে যখন তোমাকে দুমড়ে মুচড়ে ছুড়ে ফেলে দিচ্ছিলাম,
জান কি তুমি; ছিন্ন ভিন্ন হয়ে অভিন্ন কষ্টে আমিও নষ্ট হয়ে যাচ্ছিলাম।
টোলপড়া হাসিমাখা মুখটা নীল বেদনায় জমাট হয়ে গিয়েছিলো,
নিভ্রিতে শুধু বলেছিলে একটা কথা, “আমি কি এখন যাবো?”
জানতাম শেষবারের মতো বলছি, তারপরেও চেয়েছিলাম শেষ না হোক;
কী নির্লিপ্তের মতো বলেছিলাম, “যাও” ।
..........................................

সময় গড়িয়ে যায়, মেশে স্রোতের মোহনায়,
বহুকাল, বহুক্ষন কেটে যায় তার প্রতীক্ষায়!!
..........................................

তুমি আর আমার জন্য অপেক্ষায় থেকো না,
আমাকে ভালোবাসতে উন্মুখ হয়ো না,
আমাকে যদি বা কখনো দেখো, তবে ঘৃণাই না হয় দিও
আমি বুঝে নিবো, এখনো আমায় তুমিই ভালোবাসো।
প্লিজ.... আর কেঁদো না।
কান্নার নোনতা জলে অবগাহন না হয় আমিই করবো নে,
তারপরেও তুমি সুখী হও, অনেক সুখী!
তোমার সুখে যেন তোমার সখীও ঈর্ষান্বিত হয়।
এই যে সুখের পরশ পাথর তোমার শিয়রে বুলিয়ে দিলাম,
চিবুকখানি উপরে তুলে দেখ,
অনেক দূরে থাকার পরও আমি এখনও তোমার পাশে,
থাকবো সারাটা জীবন; ভাবনা করোনা তুমি।
মনে করো কষ্টমাখা দুষ্টু হাসিতে তোমাকে বিদায় দিয়েছিলাম,
বিদায় তো একটা সময় নিতেই হয়, তাই না মেয়ে?
আমি না হয় একটু আগেই নিয়েছিলাম।
আজ যে অশ্রুসজল ঝাপসা দৃষ্টিকে বড় আপন মনে হয়,
আচ্ছা, তুমি কি জানো, কান্নাজল কেন নোনা হয়?
______________নিঝুম অরণ্য