আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি। চিরদিন তোমার আকাশ, তোমার বাতাস, আমার প্রাণে বাজায় বাঁশি॥ ও মা, ফাগুনে তোর আমের বনে ঘ্রাণে পাগল করে, মরি হায়, হায় রে— ও মা, অঘ্রানে তোর ভরা ক্ষেতে আমি কী দেখেছি মধুর হাসি॥ কী শোভা, কী ছায়া গো, কী স্নেহ, কী মায়া গো— কী আঁচল বিছায়েছ বটের মূলে, নদীর কূলে কূলে। মা, তোর মুখের বাণী আমার কানে লাগে সুধার মতো, মরি হায়, হায় রে— মা, তোর বদনখানি মলিন হলে, ও মা, আমি নয়নজলে ভাসি॥ তোমার এই খেলাঘরে শিশুকাল কাটিলে রে, তোমারি ধুলামাটি অঙ্গে মাখি ধন্য জীবন মানি। তুই দিন ফুরালে সন্ধ্যাকালে কী দীপ জ্বালিস ঘরে, মরি হায়, হায় রে— তখন খেলাধুলা সকল ফেলে, ও মা, তোমার কোলে ছুটে আসি॥ ধেনু-চরা তোমার মাঠে, পারে যাবার খেয়াঘাটে, সারা দিন পাখি-ডাকা ছায়ায়-ঢাকা তোমার পল্লীবাটে, তোমার ধানে-ভরা আঙিনাতে জীবনের দিন কাটে, মরি হায়, হায় রে— ও মা, আমার যে ভাই তারা সবাই, ও মা, তোমার রাখাল তোমার চাষি॥ ও মা, তোর চরণেতে দিলেম এই মাথা পেতে— দে গো তোর পায়ের ধূলা, সে যে আমার মাথার মানিক হবে। ও মা, গরিবের ধন যা আছে তাই দিব চরণতলে, মরি হায়, হায় রে— আমি পরের ঘরে কিনব না আর, মা, তোর ভূষণ ব’লে গলার ফাঁসি॥ আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি। Lyrics by: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর Music by: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

Monday, August 25, 2014

সেই গল্পটা - পূর্ণেন্দু পত্রী

আমার সেই গল্পটা এখনো শেষ হয়নি শোনো
পাহাড়টা, আগেই বলেছি ভালোবেসেছিল মেঘকে
আর মেঘ কী ভাবে শুকনো খটখটে পাহাড়টাকে
বানিয়ে তুলেছিল ছাব্বিশ বছরের ছোকরা সে তো আগেই
শুনেছো
সেদিন ছিল পাহাড়টার জন্মদিন
পাহাড় মেঘেকে বললে; "আজ তুমি লাল
শাড়ি পরে আসবে"
মেঘ পাহাড়কে বললে;
"
আজ তোমাকে স্মান করিয়ে দেবো চন্দন জলে"
ভালোবাসলে নারীরা হয়ে যায় নরম নদী,
পুরুষেরা জ্বলন্ত কাঠ
সেইভাবেই মেঘ ছিল পাহাড়ের আলিঙ্গনের আগুনে,
পাহাড় ছিল মেঘের ঢেউ-জলে
হঠাৎ, আকাশ জুড়ে বেজে উঠল ঝড়ের জগঝম্প
ঝাঁকড়া চুল উড়িয়ে ছিনতাইয়ের
ভঙ্গিতে ছুটে এল এক ঝাঁক হাওয়া
মেঘের আঁচলে টান মেরে বললে;
ওঠ্ ছুড়ি!- তোর বিয়ে
এখনো শেষ হয়নি গল্পটা
বজ্রের সঙ্গে মেঘের বিয়েটা হয়ে গেল ঠিকই
কিন্তু পাহাড়কে সে কোনোদিনই ভুলতে পারল না
বিশ্বাস না হয় তো চিরে দেখতো পারো পাহাড়টার
হাড় পাঁজর,
ভিতরে থৈ থৈ করছে শত ঝর্ণার জল

Thursday, November 15, 2012

যাপিত জীবন

সব আলোতে আগুন নেই জেনে
তোমার চোখে আঙুল রাখি
সেটা শীত রাত ভীষণ শতাব্দীর।
বেঁচে আছি ঈশ্বর মেনে
যদিও তিনি প্রত্যক্ষ নন নাকি
এটা বলা পাপ? সকল নদীর

গভীরতা রাখেনা নৈতিক মাছ। সেদিন
তুমি তা প্রমাণিত কর ভুল। নির্ভুল
গান যা আমার কণ্ঠে গেয়ে ওঠে
অন্য কেউ। কেউ পথ ভাঙ্গে সারাদিন
কেউ কফির পয়সা করে উশুল
খেয়ে প্রেমিকার ঠোঁট,চিবুক। মোহগ্রস্ত ঠোঁটে

যারা উচ্চারণ করে “প্রেম” যদিও তারা
প্রত্যেক নারীই প্রেমিকা নয়। অবৈধ
শিরস্ত্রাণে পবিত্রতা শিক্ষা দেয় কিছু লোক
অথবা সকলেই আজ নষ্ট পুরোহিত কিংবা পোপ যারা
রাত্রিকালীন পোশাকে জমিয়ে রাখেন প্রতারণার বিবিধ
কৌশল যা দিবসে লোহিত করে মাঠের সবুজ। পতাকার শোক

ক্রমেই দীর্ঘায়ু লাভ করে। তোমার প্রশস্ত কপাল
আমার পতাকা আজ। এই কবিতা কতকাল !

 _________কালপুরুষ

প্রতিনিয়ত খালি হচ্ছে ভেতরটা

প্রতিনিয়ত খালি হচ্ছে ভেতরটা
যেন অবাঞ্ছিত হচ্ছি আমি এই পৃথিবীর কাছে
শত সহস্র মাইল পাড়ি দিয়ে যেন
সঁপে দিতে এসেছি ব্যর্থতার কাছে নিজেকে
প্রচণ্ড আশাবাদী ছিলাম, স্বপ্ন দেখতাম
কেন যেন আজ ধূসর হয়ে গেল সব
দোটানার আধিক্য মনের ভেতরে
চলছে সরণ ঘুরে ফিরে একই বৃত্তে
কাজের সমীকরণে ফলাফল যার শুন্য।

ইচ্ছে হয় পালিয়ে যেতে, ফেরারি হতে চায় মন
পিছুটান ছেড়ে, দূর সুদূরে, বহুঘুরে, বহুদুরে।
প্রয়োজনগুলোই যেন অপ্রয়োজনীয় আজ
অতীতের দরোজায় কশাঘাত আর হাহাকার
ফিরিয়ে দাও আমার অতীত, ফিরিয়ে দাও
আমি ফিরে পেতে চাই পুরনো জীবন আমার
আমি শুধরে নিতে চাই ভুলগুলো,
এভাবে আর নয়, আর নয় পরাজিত থাকা
যুদ্ধ করব বিবেকের সাথে, চাই সুযোগ আরেকবার।



____________আলইমরান

অপরাজিতা

undefined

একটি পাখি,
পৃথিবীর অগণন মৃত্যুরাশি চিনে নিয়ে
ফিরে আসে নীড়ে ।
আর তুমি ?
আমার অপরাজিতা
সূর্য চেন তুমি ?
জানো মেঘহীন শ্রাবণীর উৎস ?
রক্তকমল কেন কৃষ্ণচূড়া নয় ?
কখনও ছুয়েছ অদৃশ্য কুহেলি নরম দুহাতে ?
গোপনে গোপনে কত পাপ করেছে সঞ্চয়,
এই মহান পৃথিবী; চেয়েছো জানতে ?
চাওনি ;.... তুমি;.... কখনও;....
আমায় জেনে নিয়ে, সমস্ত জানার আকাঙক্ষা
ফেলেছ হারায়ে তুমি....।
আমারে নিয়েছ চিনে, এই ভেবে-
সমগ্র বিশ্ব চেনা ....
হয়েছে তোমার ;
এ এক সহজ বিস্ময়!
তবু যখন আবার ভোর হয়
ভাবো তুমি; “রাত্রি হলেই ভালো”
রাতের তিমিরে যখন প্রেম জ্বালে তার নিজস্ব আলো
সে আলোয়
পৃথিবীর কেউ কারো মুখ চিনে নিতে পারে না।
সে তবু চিনে লয়,
তার অভীষ্ট হৃদয়।
অসীম নিস্তব্ধতার মাঝে
জেগে ওঠে
প্রেমের অলৌকিক ভাষা।
সে ভাষায় ঘুমে বিভোর পৃথিবীর কয়না কথা কেউ
কেবল নিঃসঙ্গ নদীর পবিত্র ঢেউ
একা পথ চলে।
আর;
তার তীরে বসে আমাদের অশরীরী আত্না
তারা গোনে ধ্রুব আকাশের ।
...............শুনি
অস্পস্ট তারারা অচেনা ভাষায় কথা কয়
কেউ আর শোনে না তা
আমরা শুনি –
মৃত পাতাগুলি শান্তিতে মাটির বুকে ঝরে পড়ে
অত:পর
শব্দহীন জগতে
রহস্যময় শব্দ সৃষ্টি করে
আমাদের শরীর ক্লান্ত হলে,
অপরের চোখে যুগল ছবি আঁকি
যতক্ষন .. না .. ভোর আসে
পূর্বাকাশ লাল হতে শুরু করলে
যত দূরে সরে যাও তুমি
ততই নিকটে আসো প্রকৃতির খেয়ালে ।
একটি তারা হতে অপর একটি তারা
কত আর যেতে পারে দূরে?
একটি জীবন মৃত হয়
জন্ম লয় নতুন এক হৃদয়
যদিও শরীর ঝরে যায় শীতে
তবু স্বপনেরা কি মৃত হয় ?
কিংবা প্রণয় ?


_________কালপুরুষ
যখন একলা থাকি; গহীন সঙ্গী রাতের!
রাতের মৌনতা ভেঙ্গে- তন্দ্রানীল চেতনারা
নেমে আসে একে একে; অমাবশ্যা রাত্রিনীড়ে
সমুদ্র থেকে গভীরে- নীল চেতনার আবাহনে ।

রাতের চাদরে নীল লোহিত প্লাবন ভেঙ্গে-
উজান মনকে বলি-
আর করাল সমুদ্র স্বপ্নতলে ডুব দেয়া নয়;
রুপালি চাঁদ জ্বেলেছে আলো,
নক্ষত্রের মিলনের এইক্ষণে; এসো আজ-
জোনাক রাতের তারা হয়ে যাওয়া দেখি ।

প্রতিশ্রুতির হাতুড়ি পেটানো শব্দের কষাঘাতে
অতীতের ভবিষ্যত মুর্ছায় থাকুক আজ রাত!
ঘুমের দেবতা আজ কোমায় কাঁপুক-
স্বরাসরে; ---সকালের অপেক্ষায় ।

কল্পনাবিলাস শাদা জমিনের ফুল-
ঘুমিয়ে থাকুক আজ এখন এই মুহুর্তে;
কল্পনার আল্পনায় স্বপ্ন দেখাদেখি থাক ঝিমিয়ে আপ্রাণ;
ঘুমিয়ে থাক আঁতুর ঘরে নিদ্রাতুর পাখা মেলামেলি ।

আজ জীবনবন্দরে-
বহির্গামী জাহাজের নোঙ্গরটা ডুব দিয়ে থাক ।
গোপন শীতল জলতল-
লোনা জল ঢেলে ঢেলে সুনীল আবাহনের;
এসো এই ক্ষণে; এই ক্ষণে এসো-
আজ মিলনের পূর্ব-মুহূর্ত রচনা করি ।।


__________মাইনুল আমিন

Thursday, August 16, 2012

যে থাকে ভাবনা জুড়ে।

মাঝে মাঝে মনে হয়
তুমি খুব কাছেই আছ-
হাত বাড়ালেই তোমায় ছোঁব!
বাতায়নেও পাই তোমার সুবাস-
কি অপরূপ মোহনীয়তা!
ভালো লাগার পূর্ণতায় ভরে থাকে মন
যেন অটুট মায়ার বন্ধন।
রূপ কথায় শোনা গল্প তুমি
যেন জীবনের আরেক নাম!

তুমি থাক মিশে ওই কানির্শের সাথে
তাই দু চোখের দৃষ্টি তোমায় দেখে না।
তবু আমি বুঝি তোমার অস্তিত্ব-
আমার মরমে মরমে!
মায়া ভরা তোমার দু চোখ
চেয়ে থাকে আমার অন্তর জুড়ে-
যেন এক স্বপ্নপুরুষ
ঘুমিয়ে থাকে আমার ভাবনার জলচৌকিতে।



__________দীঘি

Monday, July 30, 2012

ফেলে আসা ক্ষণ

আবারো ফিরে দেখি সে আগের মতোন
খুঁজে বেড়াই উড়াল দেয়া হারানো শালিক
সুদূর কোন তীরের গাছ-পাতায় শ্যামল ঘাসবন
গ্রাস করে নেয়া দুরাগত শৈশবের দুরন্ত ক্ষণ
আহ! রুদ্র ঘনকৃষ্ণে সিক্ত তরঙ্গায়িত মন।

মেঘেদের আগমনীতে জাগতো বিষ্ময়
বিধ্বংসী গর্জনে দিকভ্রান্ত হয়ে যেতো
নীড়মুখী উড়ে চলা বলাকার দল
খাবি খেতে ব্যস্ত হতো কৈ-মাছের ঝাঁক
আড়ম্বরে শেষ হতো এক দুরন্ত দিনের বাঁক।

এক পলকে ঘুরে আসা কোন বৈশাখী দুপুরে
তালপুকুরের কাদা-জলে হতো জড়াজড়ি
অবাক চোখে মুখোমুখি হত খেঁকশিয়ালদের দল
টলোমলো জলে খেলা জমানো সে দামাল বাতাস
চৈতি-বকুলের গন্ধে মাতাল উদাসী আকাশ।

হারিয়েছে সেই কবে বড়শি ফেলা বিলের ঝাড়
ঝাঁকিজালে আটকে পড়া রুইয়ের মুখ
নক্ষত্র খচিত রাতে তারাদের কথন
হারিয়েছে স্বচ্ছ সরোবরে একপশলা ঐকতান
বন-বাঁদাড়ে খোঁজ লাগানো জোনাকিদের গান।

গাছ-ছায়ারা আজ যোজন যোজন দূরের নীপবন
তবুও গোধূলী বেলায় ক্রমাগত খুঁজে ফিরি
আমার ফেলে আসা আপন ভুবন।



__________________আশরাফুল কবীর

Monday, July 16, 2012

২০০৫ সালে শ্রেষ্ঠ কবিতা মনোনীত আফ্রিকার এক কৃষ্ণাঙ্গ শিশুর অসাধাধারণ কবিতা (অনুবাদ)




জন্ম আমার যখন হয় কালো আমি ছিলাম///
কালো বর্ণ নিয়ে আমি বড় হয়ে গেলাম///
কালোই আমি থেকে যাই যখন রোদে যাই//
রোগে-শোকে কালোই থাকি, ভয় পেলেও তাই ///
রং আমার কালোই রবে///
মৃত্যু আমার যেদিন হবে///

ওহে আমার (সাদা) সাথী, শুন দিয়ে মন ///
গোলাপী রং নিয়ে তুমি কর জন্ম গ্রহন ///
সাদা রং ধারণ কর যখন হও বড় //
রোদে তুমি লাল হয়ে যাও শীতে নীল ধর///
রোগে তুমি সবুজ হও হলুদ হও ভয়ে ///
মৃত্যু বরণ কর তুমি ধূসর বর্ণ নিয়ে///

তার পরেও তোমরা সবাই বর্ণহীন থাক///
কালো বলে আমায় কী কৃষ্ণাঙ্গ ডাক? ///



______________মোহাম্মদ জমির হায়দার বাবলা

Wednesday, July 11, 2012

পাথুরে অশ্রু - নিনাদ

undefined
আমি ভুলে যাব - ভুলে যাবে তুমি ও
স্বচ্ছ বেলা শেষের আলোয় বলা কথা
প্রাণপণ প্রণয়ের আশ্বাসে মিশে যাওয়া
নিয়ম ভাঙার নির্ঝর উতসব ;
তা তা থৈ থৈ নিমগ্ন বেলা -- ভুলে যাব
ভুলে যাবার চিরাচরিত বৈচিত্রে
ভুলে যাব এই না থাকার চেয়ে নিবিড়ভাবে থাকা
হয়তো ------
খুঁজে নেব বিষাদ মেঘ- রুপোলি অশ্রুর ঝড়ো উচ্ছ্বাস
উড়ন্ত ডানার ভাঁজে বিব্রত প্রহরে লুকনো
ঠুনকো ঠুনকো আবেগ মেশানো আবরণ - বিলাস
টুকরো সুখে জল - মেঘ- অশ্রু নিংড়ে স্মৃতির পোট্রেট
গড়ে নেব আধো আধো জোনাক দীপ্তিতে ।

তবু চির উন্মনা মনে প্লাবনের টান এলে
অনির্বাণ বেঁচে থাকা ভোরের নুয়ে পড়া শিশির কণা
লাল টিপ ছুঁয়ে জলোচ্ছ্বাস আনলে ভুলে
তবে থামাবে কোন নিয়মে ?? বাঁধবে কোন ছলে ??
এক নিমেষেই বললে -
"উড়ে যাক বৈকালিক হৈমন্তী হাওয়ার ঘ্রাণ --এক তুড়িতেই" ।
তোমার এমন দুরন্ত দুঃসাহস দেখে আমার শ্লথ নিশ্বাস
উড়ন্ত প্রজাপতির মিশেল রঙে ডুবে যেতে যেতে হন্যে হয়ে খুঁজে
নীল চোখে সবুজের মাতাল স্পর্শ বিলাস ।

ভুলে যেওনা নিয়তির কাছে জমা রেখেছি
মায়া -ছায়া-মায়া
সাধ - বিষাদ- বিব্রত প্রহর
তুমি মায়ার উড়নিতে রেখেছিলে কদম কলি - ফুলঝুরি আর কত ;
সে আমার চেয়ে বেশি আর কেই বা জানত ??
তবু ছন্নছাড়া বিরহ - বেদনা নীল নীল বিড়ম্বনায় মুছে দিতে চায় মায়া নুড়ি
যখন আমি তোমার আকাশে উড়াতে চাই ইচ্ছেঘুড়ি --
আমি স্তব্ধ পাথর হতে চাই অক্ষত ইচ্ছেগুলো ঢেউ হয়ে আসে যখন
বিষাদ পাথর হওয়ার অধিকার নিশ্চয় আমার ছিল ।


_____________পাহাড়ী

Friday, July 6, 2012

নিভৃত জোছনার রঙ

undefined
স্থির এক জোড়া চোখ মেলে ধরে দূরে পথিক
ত্রিশূল ভ্রু'র কিনারে ভীরু দীপিকা দোলে
চিরল পাপড়ি পাতায় খুঁজে নেওয়া নিসর্গ সুখ
মরণ সুখে হয়তোবা কিছু ভুল - তবু সুখ সুখ ই
ভুল সে তো চিরকাল ই ভুল ; ভুল সুখে একাকার
একটা সীমান্ত চাই - দু দণ্ড জিরিয়ে নেওয়া
ব্যস এইতো !

অদূরে কাজরী নৃত্যের তালে নাচিছে কোন কিশোরী পায়েল
বাঁধনহারা খোঁপায় গুঁজে রাখা কদম হারিয়েছে কূল
কেশপাশে ঝরে পড়ছে কানন শোভা ;
এখানে নির্বান্ধব পৃথিবীর বাম পাশে শুয়ে আছে নিশ্চুপ ব-দ্বীপ
লাল রঙ এঁকে এঁকে যায় - কত নীল পড়ে থাকে নির্বাক
নাগরদোলার সেই বিনুনি মেয়েটিকে আজো ভোলা হল না
ক্ষণে ক্ষণে তোলপাড় শুরু করে দেয় পুরো ব-দ্বীপ জুড়ে
একটু একটু বেদনা মেখে নিয়ে কালচে চোষ কাগজের মত হয়;
তবু বেদনা ফুরালো না
একাকীত্বের অস্তিত্ব ঘিরে টিনের চালে বৃষ্টির শব্দ শুনবার আকুলতা
যেন কি এক অদ্ভুত বিলাসিতা ! - কংক্রিটের এই বাংলো তে

কখনো ঝড়ো পথিক পথের সীমানায় থেমে যায়
ণ - হন্যে শূন্যতায় ছুঁতে চায় নিভৃত জোছনার রঙ
পলকে সরিয়ে দেয় উচ্ছ্বাস -আবেগ ; এমন
পরিমিতবোধের প্রাবল্যে আমি নিভে নিভে যাই
মনের দরোজা খুলে ভাসিয়ে দিয়েছি জলজ মায়ার পানসি নাও
সে আজ কতদিন হয়ে গেল !
অভিসারী রেখা আরেকটু প্রশস্ত হতে চাইলে
অবিনাশী ইচ্ছে আদিমতা খুঁজে ফেরে
প্রান্তর পেরিয়ে অনিকেত -তিলক পরবে বলে
নগ্ন বাহুর গভীরে মুখ ডুবিয়ে গভীরতা মাপে
পথিক ... একটু দাঁড়াও
আমার আনাড়ি কামিজের পারে জড়িয়ে দাও উন্মনা স্মৃতি
চঞ্চলতা সরিয়ে স্থির হলে কপালে এঁকে দাও লাল টিপ
এঁকেবেঁকে গেলে আলতো চুমু ;
আমি না হয় "সৃষ্টি" হবো বিন্দু গড়ে ।


_______________পাহাড়ী 

Saturday, June 30, 2012

রাতের মিলন

রাত্রির অভিসারে
তোমাকে খোঁজে পাই স্বপ্নের ভীড়ে
তুমি স্পর্শহীন আলোকের মতোই
রাত্রির আধাঁর তাড়িয়ে
আমাকে সঙ্গ দাও।

কষ্টরা হামাগুড়িতে পালাতে গিয়ে-
আহত হয় নির্জন প্রান্তরে,
জীবন জীবনের সাগরে পাল তুলে
ছুটে চলে অনির্দেশ যাত্রায়।

হাওয়ায় হাওয়ায় ঢেউ তুলে
যৌবনের উন্মাদনায়
অশান্ত সাগরে সঙ্গমের নেশা
শান্ত প্রেয়সীর চুম্বনে, আলিঙ্গনে
রাত্রিরা পর্দা ফেলে স্বপ্নীল ভোরের।

দু’চোখে স্বপ্নরা আরো ভীড় করে
মুহুর্তরা আরো কাছেতে ডাকে
মিলনের সাত মোহনা খোঁজে .....

সৃষ্টির ঘোর গ্রহনে তলায় অপূর্ণতা।


_____________

ডেকে যায় রূপোলী রোদ্দুর

undefined
অদ্ভুত ছোট দুটো হাত, দুটো পা, পিটপিট করা চোখের পাতায় আদো আদো কাঁপন । অপার আঁধারি
মায়া হতে একরাশ আলোর সামনে এসে পড়লো । তখনও বিস্ময় ! ঘোর কাটে না যেন । মায়ের ঊষ্ণ
ও'মে জিরিয়ে নিলো কিছুক্ষন । কি সে তার কান্না ! সজোরে জানিয়ে দিলো -"ঐ আঁধারি মায়ায় ভাল ছিলাম আমি" ।


দুপুর গড়িয়ে নামলো বিকেল । আজ সে অনেক বড় হয়ে গিয়েছে । আর অনেক নিঃসঙ্গ যেন । মাঝে মাঝে ভাবে ---

সময়ের গতিটা যদি পেছনে ফিরিয়ে দেওয়া যেত
পথ ভুলে কিংবা মনের অজান্তে
চলে যেত অনেক দূরে;
যেখানে এক নিষ্পাপ বালিকা
পাড়ার সাথীদের খুঁনসুটি আর
বোনদের আড্ডায় হেসে কুটিকুটি মধ্যদুপুরে;
জোছনা রাতে জানালা-খোলা আকাশ পেরিয়ে
চাদের বুড়ির গল্প শুনতে শুনতে ঘুম চোখে
হাতছানি দেওয়া কতদূর বহুদূর।

বইয়ের কালো অক্ষর ঘোলাটে হয়ে এলে
আম্মু বলতেন" রাত জেগে পড়তে হয় না" ।
মিষ্টি অভিমান- খুব ভাল লাগত বলেই না
নিত্য রাত জেগে পড়ত ; লক্ষ্মী মা ।
টেবিল থেকে টেনে মুখে তুলে দিত খাবার
তারপর সোজা ঘুম; আহা কোথায় হারালো সেসব??

অথবা আরও দূরে
যেখানে ছয় বছরের খুকী
আম্মুর ছায়ায় ছায়ায় , আব্বুর আদরে
পড়ুয়া ভাইয়ের সোহাগ আর
বোনদের বকার ভিড়ে ।
ভাত-ঘুমে মায়ের পাহারা
সাথীদের খেলার আহ্বান
মন আনচান --আরও কত কি !

সন্ধ্যা হামাগুড়ি দিতে দিতে রাত এনে দিল--

সেই ...সেই মেয়ে আজ
ইট -পাথর - সুরকির দেয়ালের মাঝে
রাত জাগা ঘুম চোখে শুনতে পায়
ডেকে যাওয়া রুপোলী রোদ্দুর ।



__________________পাহাড়ী

হৃদয় কর্তন করতে তুমি অদ্বিতীয়!



তুমি আমার হৃদয় স্পর্শ করেছিলে
তোমার মোহনীয় রূপের কোমল নীরবতায়।
তোমার আদেশই ছিল আমার ইচ্ছা
যতক্ষণ পর্যন্ত তোমার দৌড় ছিল আমার ভালবাসায়।
আমি নিজেকে বলতে শিখেছিলাম
তোমার আমি কিম্বা আমি তোমার,
প্রত্যাশিত আমাকে পেলেই ভুলে যেতে
অন্য শত ব্যস্ততা!
আজ তুমি ভুলে থাক আমায়
ছুটে চল অতি দ্রুতগামী, ক্রমাগত ভুল ঠিকানায়!
অথবা তোমার আপন নীরবতায়, ইচ্ছা এবং কল্পনায়!
আমি খুবই অবাক হয়েছিলাম-
হৃদয় কর্তন করবার সেরা অস্ত্রটি তোমার কাছে!!
তুমি আমার হৃদয় কেটে ফেলেছিলে অন্যত্র এবং জীবন!

আমি যখন প্রিয় বন্ধুদের সামনে
মিথ্যে হাসির ভান করি
আমি শঙ্কিত থাকি নিজেকে নিয়ে এবং ভীষণ!
এটা শুধু অভিনয় মাত্র
আর আমি এক রঙ্গ মঞ্চ!
দিনে রাতে আমি অসংখ্যবার ফিরে যায়
আমার তাৎপর্য-হীন ভণিতায়
কিন্তু কিভাবে!
কিভাবে পারি এই ছদ্মবেশ ধারণ করতে
আমার দুটি চোখ কি পারে!!
এ জেনেও -
হৃদয় কর্তন করতে তুমি অদ্বিতীয়!!

আমি কিভাবে পারি চিরতরে নিরাময় হতে
আমি গভীর ভাবাবেগে চমকিত হয়
তুমি সর্বদা আমার জীবন বিদীর্ণ করে
হৃদয়কে করেছ প্রয়োজনীয় খন্ডে চূর্ণ!
আমি অনাবরত চেষ্টা করেছি
সেই কষ্টের দুর্গ থেকে বেরিয় আসতে
আমার ভিতরে প্রচণ্ড কষ্ট অনুভূত হয়েছে,
তবু ব্যর্থতার বিদীর্ণ কষ্ট বারংবার
তোমাকেই চেয়েছে
এ কথা জেনেও
হৃদয় কাঁটতে পার তুমি এক নিঃশ্বাসে
আমি কিভাবে চিরতরে নিরাময় হব!
আমি গভীর ভাবাবেগে চমকিত হয় এবং দেখতে পায়
তুমি আমার জীবন বিদীর্ণ করে
হৃদয়কে করেছ কঠোর পদাঘাৎ!



____________আরমানউজ্জামান

জীবন যেমন

undefined
বেঁচে আছি বলেই তো মনে হয়,
এর চেয়ে বেশি কিছু প্রয়োজন
থাকার কথা তো নয়।

হাঁটতে গিয়ে হোঁচট খাওয়া
তারপরে সামলে নেয়া
যেন সে প্রতিদিনেরই ঘটনা।
উঠে দাঁড়াতে পারছি আবার,
এই তো যথেষ্ট;পথ চলা থামানোর
কথা তো আর না।

জীবনের সাথে অভিমান,
ক্ষোভ, আক্ষেপের আস্ফালন;
ফলাফল শূন্যে শেষ।
কি দরকার এসবের তবে,
লাভের খাতায় বরং
শূন্যই থাকবে বেশ।

দিনভর তোষামোদের পর
শুনতে হয়, আরও চেষ্টা কর।
নিজের রাস্তা চেষ্টাতেই গড়ি,
দিনভর হাত কচলিয়ে মরি,
জীবনের এই বিচিত্র সৌন্দর্য!

তাই বেঁচে থাকার সুখে,
নয় সুখের মুখোশে
কণ্ঠ ছিঁড়ে চিত্‌কার করি
হর্ষে, আমোদে
নয়ত বিষাদে।
জীবনের এই তো শেষ নয়,
বেঁচে থাকার জন্যই
তাই বেঁচে থাকতে হয়।


____________ছদ্মবেশী

Thursday, June 28, 2012

হৃদয় কর্তন করতে তুমি অদ্বিতীয়!

undefined

তুমি আমার হৃদয় স্পর্শ করেছিলে
তোমার মোহনীয় রূপের কোমল নীরবতায়।
তোমার আদেশই ছিল আমার ইচ্ছা
যতক্ষণ পর্যন্ত তোমার দৌড় ছিল আমার ভালবাসায়।
আমি নিজেকে বলতে শিখেছিলাম
তোমার আমি কিম্বা আমি তোমার,
প্রত্যাশিত আমাকে পেলেই ভুলে যেতে
অন্য শত ব্যস্ততা!
আজ তুমি ভুলে থাক আমায়
ছুটে চল অতি দ্রুতগামী, ক্রমাগত ভুল ঠিকানায়!
অথবা তোমার আপন নীরবতায়, ইচ্ছা এবং কল্পনায়!
আমি খুবই অবাক হয়েছিলাম-
হৃদয় কর্তন করবার সেরা অস্ত্রটি তোমার কাছে!!
তুমি আমার হৃদয় কেটে ফেলেছিলে অন্যত্র এবং জীবন!

আমি যখন প্রিয় বন্ধুদের সামনে
মিথ্যে হাসির ভান করি
আমি শঙ্কিত থাকি নিজেকে নিয়ে এবং ভীষণ!
এটা শুধু অভিনয় মাত্র
আর আমি এক রঙ্গ মঞ্চ!
দিনে রাতে আমি অসংখ্যবার ফিরে যায়
আমার তাৎপর্য-হীন ভণিতায়
কিন্তু কিভাবে!
কিভাবে পারি এই ছদ্মবেশ ধারণ করতে
আমার দুটি চোখ কি পারে!!
এ জেনেও -
হৃদয় কর্তন করতে তুমি অদ্বিতীয়!!

আমি কিভাবে পারি চিরতরে নিরাময় হতে
আমি গভীর ভাবাবেগে চমকিত হয়
তুমি সর্বদা আমার জীবন বিদীর্ণ করে
হৃদয়কে করেছ প্রয়োজনীয় খন্ডে চূর্ণ!
আমি অনাবরত চেষ্টা করেছি
সেই কষ্টের দুর্গ থেকে বেরিয় আসতে
আমার ভিতরে প্রচণ্ড কষ্ট অনুভূত হয়েছে,
তবু ব্যর্থতার বিদীর্ণ কষ্ট বারংবার
তোমাকেই চেয়েছে
এ কথা জেনেও
হৃদয় কাঁটতে পার তুমি এক নিঃশ্বাসে
আমি কিভাবে চিরতরে নিরাময় হব!
আমি গভীর ভাবাবেগে চমকিত হয় এবং দেখতে পায়
তুমি আমার জীবন বিদীর্ণ করে
হৃদয়কে করেছ কঠোর পদাঘাৎ!


____________________আরমানউজ্জামান

Tuesday, June 26, 2012

মেয়ে তুমি জাগো...

মেয়ে তুমি জাগো
আমি তোমার বন্ধ দরজায় কড়া নাড়তে চাই
নিবিড় কাষ্ঠে এঁকে দিতে চাই মুক্ত পারিজাত।
সে কোন সংরক্ষিত আসনের দোহাই দিয়ে নয়,
চাকুরী কিংবা উচ্চপদে কোটা নিশ্চিত করেও নয়।
মনের গভীরে আলো জ্বালিয়ে আমি তোমার
বদ্ধ পৃথিবীর দ্বার খুলে দিতে চাই।

হাতের পুতুল কেড়ে নিয়ে তুলে দিতে চাই বন্দুক
সাজানো খেলাঘর ধুলোয় মাড়িয়ে তোমার হাতে
তুলে দিতে চাই আমার খেলনা গাড়ি, উড়োজাহাজ।
পুতুলের মত নয়, তোমায় দেখতে চাই সাহসী বীরঙ্গনা রূপে।
বদ্ধ সংসারে আবদ্ধ নয়; তোমাকে দেখাতে চাই উন্মুক্ত আকাশ।

বিজ্ঞাপনের পণ্য করে নয়, রূপালী পর্দায়-
তোমার মায়াবী কায়া উন্মুক্ত করেও নয়।
উদ্ভট পোশাকে, নতুন ফ্যাশনে তোমার
অবিন্যস্ত তণু রাস্তায় দেখিয়ে নয়।
এসো, তোমার সুপ্ত মেধায় ভালবাসার জল ঢালি।
তুমি জাগো, ভাবনায় চেতনায় পরিপূর্ণ প্রস্ফুটিত হও ।

অবলা প্রেমিকা রূপে আমার বাহু শৃঙ্খলে বন্দী, বগল চাপা
নিয়ত আবেগাপ্লুত তরুনীর উন্মুক্ত হাসি দেখতে চাই না,
মাথা নিচু করে নয়, আমার কাঁধে কাঁধ রেখে চল।
নির্জন পার্কে বসে সুরসুরিতে খুনসুটি নয়,
এসো জীবনের পথে, এসো তোমার সাথে পাঞ্জা লড়ি।

তোমায় অন্ধকূপে বন্দী করে দিতে চাই না
বিলাসী অন্ন, জমকালো বস্ত্র, অট্টালিকা সুখ।
চাকুরীতে কোটা নয়, সংরক্ষিত কোন আসন নয়,
নয় কোন অনুগ্রহের লজ্জা।
হাত বাড়িয়ে আছি- তুমি উঠে এসো...... উঠে এসো
আমার ঐন্দ্রজালিক ভাবনার মূর্তিমান প্রতিমা হয়ে,
এসো সাজাই নতুন পৃথিবী- পারস্পরিক শ্রদ্ধায়,
গভীর ভালবাসায়। বন্ধু হয়ে, সহযাত্রী হয়ে......


_____________অনিন্দ্য অন্তর অপু

Sunday, June 24, 2012

উপমা

উপমা তোমায় কি দিবো আজ?
সব কিছু ছাড়িয়ে গেছ তুমি-
আমার আকাশের চাঁদ হয়ে
হাসছো তুমি আলো ছড়িয়ে,
তারাগুলো তোমায় ঘিরে - এলোমেলো হয়ে থাকে।
আজ এই দিনে নতুন সাজে
সেজেছ তুমি তোমার জন্মদিনে,
এই গান আজ আমার তোমার জন্মদিনের উপহার।।

প্রজাপতিরা সব উড়ছে - ঘুরছে
সুবাসিত সেই ফুল খুঁজছে,
মৌমাছিরা পথ হারালো
মুখে মধু নিয়ে ফুলটি কোথায় গেল?
ওরা বোকা, কেউ জানেনা - সেই ফুল তো আর বাগানে ফোটে না।
আজ এই দিনে নতুন সাজে
সেজেছ তুমি তোমার জন্মদিনে,
এই গান আজ আমার তোমার জন্মদিনের উপহার।।




____________________ফারহানা জামান লিজা

রক্তাক্ত হৃদয়


 


হৃদয়ের মাঝে প্রবল রক্তক্ষরণে
আন্তঃঅলিন্দ, আন্তঃনিলয় পর্দাটা
বুঝি ছিড়েই গেল, এতটা প্রবল
আঘাত সহ্য করার ক্ষমতা যে
ছিল না........। বাহ্যিক অটল মূর্তিটা
দেখে কেউ কল্পনায় আঁকতেও পারেনি,
ভাবতেও শিখেনি অন্তরাত্না যে পুড়ে
পুড়ে ছারখার।

কতদিন রইবে এই বাহ্যিক খোলসটা?
জানে না কেউ..........।




____________জান্নাতী

আশান্বিতা

ভালোবাসার নীলকন্ঠে আমি কখনই সাধতে চাইনি অচেনা সূর-
গাঁথতে চাইনি স্মরণের মালা ভুলে যাওয়া ফুলের গুচ্ছ কুঁড়িতে
আষাঢ়ের ধ্রুপদী আমায় টেনেছে বারবার তোমারই বিশাল বুকে
কখনো ঝুমঝুম বর্ষার আলিঙ্গনে ,কখনোবা মেঘের ধূসর গর্জনে।

আমি শুনেছি বাতাসের গুঞ্জনে তোমারই না বলা সব কষ্ট-ব্যাথা
আমার হৃদয় গহিনে তোলপাড় করেছে হাওয়ার ছন্দভরা উত্তাল
আমি পরশ পেয়েছি তোমারই গভীর নিঃশ্বাসের প্রাণময় মায়ায়
কদম ফুলের প্রথম সুবাসে যখন মেতেছে অনাদর যাযাবর মন
উদাসী জানালা খুলে স্মৃতির ভেলায় ভেসেছি নিয়ে নিঃস্ব সময় !

সোদামাটির হিন্দোলে বাজে নুপুরের ধ্বনি-প্রহর কাটে নিরাশারই
দোলায়। অপেক্ষায় দেখি সূর্য উঠা ভোর মিতালীর ছায়াতলে,লুহাওয়ার
টানে অবিরাম ছুটে চলে; দুচোখ খুঁজে ফিরে স্নিগ্ধভরা কৃষ্ণচূড়ার দোর
নতুন সাজে সেজেছে ধরণী প্রেয়সীর দিঘীজল-আমি সেই পানে চেয়ে
থাকি মুগ্ধতার বাণী শম্বরে ভাসিয়ে; জানি আমি পাব তোমায় কোন
এক স্তব্ধক্ষণে ,অনন্তের সানায়ে আবার না হয় নতুন করে ।



_____________সেলিনা ইসলাম

নিরালাপে নারীলাপ

তুমি লতা হও
জড়িয়ে থাকো আমার জানালার পাশে থাকা কামিনী।
সারারাত মোহিত থাকি আমি কামিনীর কামঘ্রানে।

বৃষ্টি হও ইলশেগুড়ির মতো
সারাদিন ঝর ঝর করে ঝরো আমার উঠানে,
শিশুর মতো খেলা করো জমে থাকা কাঁদাজলে।

শুভব্রত হও, হৃদয়ের কাছে যাও
উপাসনা করো প্রভুর।

পার্বনের উৎসব হয়ে জ্বল জ্বল করে জ্বলো কৃষাণের চোখে
শিল্পীর রং-তুলি হয়ে ফোটে ওঠো নতুন সৃষ্টিতে, ক্যানভাসে।
মৃদু বাতাস হও
বয়ে যাও ঝির-ঝির
পুকুর পাড়ের বাশঝাড়ে।

করুণা করো
অনুরোধ শুনো
শুধু রঙ বদলিয়ো না ।।


_______________ডাঃ এনামুল হক এনাম